২০২৬-এর টর্চবেয়ারার তালিকা এসে গেছে! চোখ রাখুন!
আমাদের কথা
যা মনে থাকে, তা-ই বাঁচে। যা সংরক্ষিত হয়, তা-ই থাকে। চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ ভালোবাসা এবং স্মৃতিকাতরতা সত্ত্বেও গত শতক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস সংরক্ষণের কাজটা খুব সামান্যই হয়েছে। অতিমারী (২০২০-২১) যেন আমাদের কাছে একটা সুযোগ নিয়ে এল। চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রবল উৎসাহী আমরা কয়েকজন স্থির করলাম এমন একটা ডিজিটাল মঞ্চ স্থাপন করা হবে যা শিল্পী এবং দর্শকদের মনে সমানভাবে অনুপ্রেরণা সঞ্চার করতে পারবে। সেই থেকেই জন্ম হল 'বেঙ্গল ফিল্ম আর্কাইভ'(বিএফএ), একটি দ্বিভাষিক ই আর্কাইভ। এই মহাফেজখানা এক অর্থে একটি চলচ্চিত্র কোষ- যেখানে পাওয়া যাবে তথ্য, ছোটখাটো ঘটনা, রম্য রচনা, সাক্ষাৎকার বা জীবনীই শুধু নয়, সঙ্গে থাকবে ইন্টারঅ্যাক্টিভ অনলাইন গেমসও।
স্মৃতির ঠিকানা

সিনেমা নিয়ে সামান্যতম কৌতূহল আছে আপনার?  তা হলে তো আপনি অবধারিত বলে দেবেন, সত্যজিৎ রায়ের বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িটা ঠিক কোন জায়গায়। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা যায়, অজয় কর-অসিত সেন-অরুন্ধতী দেবী-হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় বা ঋত্বিক ঘটকের বাড়িগুলো কোথায়? বা কলকাতা থাকার সময় পৃৃথ্বীরাজ কাপুর বা কে এল সায়গল কোথায় থাকতেন?  সেই সব স্মরণীয় ঠিকানার সন্ধান না জানা থাকলে এই বিভাগটি আপনারই জন্য অনেক পরিশ্রমে আমরা সংগ্রহ করেছি, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম যুগ থেকে তার সঙ্গে যুক্ত স্মরণীয় ব্যক্তিদের ঠিকানা ও তার বর্তমান হাল হকিকত।   

 
এ শুধু গানের দিন
সবাক চিত্রের যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে চলচ্চিত্রে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছে নেপথ্যসঙ্গীত। কানন দেবীর ‘আমি বনফুল’ থেকে আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি মিস ক্যালকাটা’, বাংলা সিনেমায় গান আছে প্রতিটি অনুভূতি নিয়ে। এই বিভাগে বিএফএ সুর বেঁধেছে বাংলা সিনেমার নেপথ্য সঙ্গীতের গীতিকার, সুরকার আর কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গে। পাবেন গত সাত দশকের বাংলা সিনেমার হিট গানের একটি তোড়া।
আমাদের শর্ট টেক
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলিতে আমরা মাঝে মাঝেই ছোট ভিডিও, রিল, ক্যারাউসেল বানিয়ে থাকি। বাংলা ছবির নানা থিমকে ধরেই এগুলো তৈরি। মাঝে মাঝে তার সঙ্গে থাকে সংক্ষিপ্ত নোটও। আমাদের আর্কাইভের বিস্তীর্ণ সম্ভারকে কাজে লাগিয়েই মূলত এগুলো বানানো। আমাদের চেষ্টা থেকেছে কনটেন্ট নির্মাণের চলতি হাওয়ায় গা ভাসানো নয়। বরং পুনরাআবিষ্কারের নেশাই আমাদের চালিত করে। আমাদের লক্ষ্য থাকে, তথ্যনিষ্ঠ থিম খুঁজে নেওয়ার। চলচ্চিত্রকে আমার যেমন একটি শিল্পমাধ্যম হিসেবে দেখি, তেমনই দেখি সামাজিক দলিল হিসেবেও। আমাদের কনটেন্টেও তার ছাপ থাকে। এত দিন ধরে আমাদের এই নিজস্ব ছোট কনটেন্টগুলো আমাদের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলেই ছড়ানো ছিল। সেগুলিকে আরও সুসংগঠিত ভাবে সংরক্ষণ এবং সবার কাছে সহজলভ্য করে তুলতেই ওয়েবসাইটে এই বিভাগের সূচনা। এখানে বিষয়ভিত্তিক ছোট নোট থাকছে, তারই সঙ্গে থাকছে সংশ্লিষ্ট ইউটিউব ভিডিওতে সরাসরি পৌঁছনোর সুযোগও। এই বিভাগটি বলা ভাল, আমার আমাদের আর্কাইভ থেকে যে সব মণিমুক্তোর সন্ধান পাচ্ছি, যে সব কনটেন্টের বীজ থুঁজে নিচ্ছি, সেগুলো আর্কাইভকেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস। বাংলা ছবি, বাংলার ছবি আর বাঙালির ছবি বেঁচে থাকুক!

নতুন সংযোজন
শরৎচন্দ্র ১৫০
House of Memories
পডকাস্ট হাব
House of Memories
পডকাস্ট হাব আমাদের সমস্ত অডিও সিরিজের বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর ও ইতিহাসভিত্তিক আখ্যানকে একত্রে ধারণ করার সংগ্রহশালা। যেখানে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ঘিরে নির্মিত আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং স্মৃতিচারণের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারে। আমাদের পডকাস্ট সংগ্রহের সূচনা ‘বায়োস্কোপের বৈঠক’ দিয়ে। এই সিরিজে গবেষক সায়নদেব চৌধুরী ১৯৩০-এর দশক থেকে শুরু করে প্রতিটি দশকের একটি করে—মোট নয়টি কালজয়ী বাংলা চলচ্চিত্রকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করেছেন। ‘ডিরেক্টরস কাট’-এ পরিচালক অতনু ঘোষ তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণের দর্শন, সৃজনপদ্ধতি এবং শিল্পভাবনাকে বিশদে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি টেকনিশিয়ানস স্টুডিও-র দুইটি সিজনে অংশ নিয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদেরা—চিত্রগ্রাহক অভীক মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক অর্ঘ্যকমল মিত্র, শব্দ পরিকল্পনাকারী ধীমান কর্মকার-সহ আরও অনেকেই। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও কাজের অন্তরালের গল্প এই সিরিজকে করে তুলেছে বিশেষ মূল্যবান। এই সংগ্রহে রয়েছে ‘নায়িকা সংবাদ, যেখানে কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সময়ের কথা ভাগ করে নিয়েছেন। বিএফএ আনকাট-এ বহু পর্ব জুড়ে বিশদ সাক্ষাৎকারে ধরা পড়েছে কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়, বিভাস চক্রবর্তী, সোহাগ সেন-সহ বাংলা সংস্কৃতির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবন, শিল্পচিন্তা এবং সৃষ্টির ইতিহাস। এ ছাড়াও রয়েছে ‘সিনেমা খাতা হলদে পাতা’, যেখানে অভিনেতা সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় উল্টে দেখেছেন বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো চলচ্চিত্র পত্রিকাগুলির পাতা। বাংলা সিনেমার বিস্মৃত ইতিহাস, অজানা তথ্য এবং এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অনন্য দলিল। এই পডকাস্ট হাব কেবল বিভিন্ন সিরিজের সমাহার নয়; এটি বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির ইতিহাসকে জানার, শোনার এবং নতুন ভাবে আবিষ্কার করার এক নির্ভরযোগ্য আর্কাইভ।
বড় নিবন্ধ
আমাদের মনঃসংযোগের বহর যখন ক্রমশ কমছে, তখন বড় লেখা কেন? আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, বলতে পারেন কেউ কেউ। কিন্তু বিএফএ-র আমরা জেনেবুঝেই ঝুঁকিটা নিচ্ছি। কারণ আমরা ভাল লেখার কদর করতে চাই। এই বিভাগে আমরা রাখব সিনেমা নিয়ে নিবিড় আলোচনা, সাক্ষাৎকার আর স্মৃতিচারণ, যা সত্যিই দাবি করবে আপনার সময়, মনোযোগ আর পড়ার নিজস্ব আনন্দ। সব লেখাই থাকছে ইংরেজি, বাংলা দুই ভাষাতেই। কোনও পয়সাও লাগছে না। ফলে সময় নিয়ে নিশ্চিন্তে পড়ুন। দরকার হলে ফিরে পড়ুন। আমাদের লেখকদের সঙ্গে পরিচিত হোন। প্রতিক্রিয়া জানান।
বিশেষ লেখা
'মানিকদা পরচুলা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখলেন ঠিক লাগছে কিনা'
শর্মিলা ঠাকুরের জায়গায় সত্যজিৎ রায়ের 'অপুর সংসার' (১৯৫৯)-এ অভিনয়ের সুযোগ প্রায় হাতের নাগালে এসেও শেষ পর্যন্ত না পাওয়া, আর তারপর বহু বছর পরে 'জন অরণ্য' (১৯৭৬)-এর মাধ্যমে রায়ের ছবিতে অভিষেক—লিলি চক্রবর্তীর পথচলা যেন এক অনন্য চলচ্চিত্র-ইতিহাস। এ বছর 'জন অরণ্য' মুক্তির ৫০ বছর পূর্তি। আজ ৮৪ বছর বয়সেও লিলি চক্রবর্তী বাংলা ও হিন্দি—দুই চলচ্চিত্র জগতেই তাঁর অসামান্য কাজের ভাণ্ডার নিয়ে গর্বিত। কখনও তপন সিংহের ছবির জন্য ভোর চারটেয় উঠে সারা শরীরে গাঢ় রঙের মেকআপ করিয়েছেন, আবার কখনও বলিউডে সহ-অভিনেত্রীর নিরাপত্তাহীনতার কারণে সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য বাদ পড়েছে। ভারতীয় সিনেমার বহু স্বর্ণযুগের সাক্ষী এই অভিনেত্রী।নিজের স্বভাবসিদ্ধ সরলতা ও বিনয়ের সঙ্গে তিনি সাংবাদিক ও লেখক অমৃতা মুখোপাধ্যায়কে জানালেন তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা অজানা গল্প, স্মৃতি আর অভিজ্ঞতার কথা
আমাদের ছবি
লেখা আর ফটোগ্রাফ তো আছেই। কিন্তু সিনেমার উদযাপন কি সম্পূর্ণ হয় চলচ্ছবিকে বাদ দিয়ে? এই বিভাগে বিএফএ নিয়ে আসবে একগুচ্ছ ছোট ছবি। যার মধ্যে ধরা থাকবে সিনেমার পদাতিক বাহিনীর কথা, বিস্মৃত স্টুডিও বা প্রবীণ প্রেক্ষাগৃহের গল্প। সিনেমাকে আমাদের চোখে অতিকায় বানিয়েছেন তো এঁরাই। শুধু তারকাদের দ্যুতি নয়, আমরা পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসতে চাই সেই সব অশ্রুত কাহিনীকে, যাদের বাদ দিয়ে সিনেমা সিনেমাই নয়।
বিএফএ অরিজিনালস
লস্ট?
প্যারাডাইস একসময়ে ছিল কলকাতার সিনেমাপ্রেমীদের নন্দনকানন। এসপ্ল্যানেডের অগুন্তি থিয়েটারের মধ্যে টাইগার, গ্লোব, জ্যোতি, সোসাইটি, এলিট এবং প্যারাডাইসেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হত। প্রেক্ষাগৃহটির মূল পর্দাকে ঢেকে রাখা তিন থাক পর্দার বাহার থেকে শুরু করে ছবির বিরতি চলাকালীন আধখোলা দরজার ফাঁক দিয়ে নির্গত এসির ঠান্ডা হাওয়ার আরাম, প্যারাডাইসের জৌলুস ও আকর্ষণের এমন নানা খুঁটিনাটি প্যারাডাইস-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও সযত্নে সঞ্চিত। জুনেইদ আহমেদ এই প্রেক্ষাগৃহের এমনই একজন পৃষ্ঠপোষক। বিজয় চৌধুরীর তৈরি ছবিতে হাতিবাগানের এই অধিবাসীর মুখে পৃথিবীর বুকে প্যারাডাইস-রূপী স্বর্গের স্মৃতিরোমন্থনকালে সঙ্গী হয়েছে বিএফএ।