সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এক দুষ্প্রাপ্য উপহার! বিএফএ'র টেকনিশিয়ানস স্টুডিওর দ্বিতীয় সিজন এখন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ। আমাদের প্রথম অতিথি হলেন সম্পাদক অর্ঘ্যকমল মিত্র। আমাদের দ্বিতীয় অতিথি সায়ক ভট্টাচার্য। আমাদের তৃতীয় অতিথি তন্ময় চক্রবর্তী।
আমাদের কথা
যা মনে থাকে, তা-ই বাঁচে। যা সংরক্ষিত হয়, তা-ই থাকে। চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ ভালোবাসা এবং স্মৃতিকাতরতা সত্ত্বেও গত শতক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস সংরক্ষণের কাজটা খুব সামান্যই হয়েছে। অতিমারী (২০২০-২১) যেন আমাদের কাছে একটা সুযোগ নিয়ে এল। চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রবল উৎসাহী আমরা কয়েকজন স্থির করলাম এমন একটা ডিজিটাল মঞ্চ স্থাপন করা হবে যা শিল্পী এবং দর্শকদের মনে সমানভাবে অনুপ্রেরণা সঞ্চার করতে পারবে। সেই থেকেই জন্ম হল 'বেঙ্গল ফিল্ম আর্কাইভ'(বিএফএ), একটি দ্বিভাষিক ই আর্কাইভ। এই মহাফেজখানা এক অর্থে একটি চলচ্চিত্র কোষ- যেখানে পাওয়া যাবে তথ্য, ছোটখাটো ঘটনা, রম্য রচনা, সাক্ষাৎকার বা জীবনীই শুধু নয়, সঙ্গে থাকবে ইন্টারঅ্যাক্টিভ অনলাইন গেমসও।
আমাদের ইউটিউব
এ শুধু গানের দিন
সবাক চিত্রের যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে চলচ্চিত্রে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছে নেপথ্যসঙ্গীত। কানন দেবীর ‘আমি বনফুল’ থেকে আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি মিস ক্যালকাটা’, বাংলা সিনেমায় গান আছে প্রতিটি অনুভূতি নিয়ে। এই বিভাগে বিএফএ সুর বেঁধেছে বাংলা সিনেমার নেপথ্য সঙ্গীতের গীতিকার, সুরকার আর কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গে। পাবেন গত সাত দশকের বাংলা সিনেমার হিট গানের একটি তোড়া।
বড় নিবন্ধ
আমাদের মনঃসংযোগের বহর যখন ক্রমশ কমছে, তখন বড় লেখা কেন? আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, বলতে পারেন কেউ কেউ। কিন্তু বিএফএ-র আমরা জেনেবুঝেই ঝুঁকিটা নিচ্ছি। কারণ আমরা ভাল লেখার কদর করতে চাই। এই বিভাগে আমরা রাখব সিনেমা নিয়ে নিবিড় আলোচনা, সাক্ষাৎকার আর স্মৃতিচারণ, যা সত্যিই দাবি করবে আপনার সময়, মনোযোগ আর পড়ার নিজস্ব আনন্দ। সব লেখাই থাকছে ইংরেজি, বাংলা দুই ভাষাতেই। কোনও পয়সাও লাগছে না। ফলে সময় নিয়ে নিশ্চিন্তে পড়ুন। দরকার হলে ফিরে পড়ুন। আমাদের লেখকদের সঙ্গে পরিচিত হোন। প্রতিক্রিয়া জানান।
বিশেষ লেখা

নারীর চোখ: বাংলা ছবিতে ক্ষমতা, সম্পর্ক ও দেখার ধরণধারণ

১৯৬৪ সালের ছবি "জতুগৃহ"। পরিচালক তপন সিংহ। ছবির শেষে এক নারী না বলছেন — তাঁর প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে আবার মিলিত জীবন শুরু করতে অস্বীকার করছেন। এক সময় যে সীমারেখা টানা হয়েছিল, তাকেই সম্মান জানাতে চাইছেন। এর দুই দশক পরে ওই একই ছোট গল্প অবলম্বনে গুলজার পরিচালিত "ইজাজত" ছবিতে দেখা যায় প্রাক্তন স্ত্রী নতুন জীবন শুরু করার আগে যেন অনুমতি চাইছেন। এই মৌলিক পার্থক্য আমাদের সামনে সিনেমার এক গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে: শুধু কে দেখছে সেটা নয়, বরং কী ভাবে দেখা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ সেটাও। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক দেবারতি গুপ্ত কাটাছেঁড়া করেছেন ফিমেল গেজ বা নারীর দৃষ্টির ধারণাকে— এ এমন এক দেখা যা পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সীমা অতিক্রম করে। ১৯৩৭ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত বিস্তৃত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা চলচ্চিত্রের উদাহরণ টেনে দেবারতি দেখিয়েছেন, কী ভাবে সিনেমা পিতৃতান্ত্রিক উপস্থাপনার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এবং যখন আমরা একটি দৃষ্টিকে নতুন ভাবে পড়তে শিখি তখন আর কী কী দৃশ্যমান হয়ে ওঠে

আমাদের ছবি
লেখা আর ফটোগ্রাফ তো আছেই। কিন্তু সিনেমার উদযাপন কি সম্পূর্ণ হয় চলচ্ছবিকে বাদ দিয়ে? এই বিভাগে বিএফএ নিয়ে আসবে একগুচ্ছ ছোট ছবি। যার মধ্যে ধরা থাকবে সিনেমার পদাতিক বাহিনীর কথা, বিস্মৃত স্টুডিও বা প্রবীণ প্রেক্ষাগৃহের গল্প। সিনেমাকে আমাদের চোখে অতিকায় বানিয়েছেন তো এঁরাই। শুধু তারকাদের দ্যুতি নয়, আমরা পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসতে চাই সেই সব অশ্রুত কাহিনীকে, যাদের বাদ দিয়ে সিনেমা সিনেমাই নয়।
বিএফএ অরিজিনালস
লস্ট?
প্যারাডাইস একসময়ে ছিল কলকাতার সিনেমাপ্রেমীদের নন্দনকানন। এসপ্ল্যানেডের অগুন্তি থিয়েটারের মধ্যে টাইগার, গ্লোব, জ্যোতি, সোসাইটি, এলিট এবং প্যারাডাইসেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হত। প্রেক্ষাগৃহটির মূল পর্দাকে ঢেকে রাখা তিন থাক পর্দার বাহার থেকে শুরু করে ছবির বিরতি চলাকালীন আধখোলা দরজার ফাঁক দিয়ে নির্গত এসির ঠান্ডা হাওয়ার আরাম, প্যারাডাইসের জৌলুস ও আকর্ষণের এমন নানা খুঁটিনাটি প্যারাডাইস-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও সযত্নে সঞ্চিত। জুনেইদ আহমেদ এই প্রেক্ষাগৃহের এমনই একজন পৃষ্ঠপোষক। বিজয় চৌধুরীর তৈরি ছবিতে হাতিবাগানের এই অধিবাসীর মুখে পৃথিবীর বুকে প্যারাডাইস-রূপী স্বর্গের স্মৃতিরোমন্থনকালে সঙ্গী হয়েছে বিএফএ।
স্মৃতির ঠিকানা

সিনেমা নিয়ে সামান্যতম কৌতূহল আছে আপনার?  তা হলে তো আপনি অবধারিত বলে দেবেন, সত্যজিৎ রায়ের বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িটা ঠিক কোন জায়গায়। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা যায়, অজয় কর-অসিত সেন-অরুন্ধতী দেবী-হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় বা ঋত্বিক ঘটকের বাড়িগুলো কোথায়? বা কলকাতা থাকার সময় পৃৃথ্বীরাজ কাপুর বা কে এল সায়গল কোথায় থাকতেন?  সেই সব স্মরণীয় ঠিকানার সন্ধান না জানা থাকলে এই বিভাগটি আপনারই জন্য অনেক পরিশ্রমে আমরা সংগ্রহ করেছি, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম যুগ থেকে তার সঙ্গে যুক্ত স্মরণীয় ব্যক্তিদের ঠিকানা ও তার বর্তমান হাল হকিকত।