
পুজোর সময় বাংলা ছবি দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন অনেকেই। ইদানীং পুজো রিলিজ বেশ একটা সাড়া জাগানো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবসরে আমরা মনে করতে চেয়েছি ১২টি বিখ্যাত ছবির কথা, যারা মুক্তি পেয়েছিল পুজোর মরসুমেই। বিভিন্ন দশক এবং বিভিন্ন পরিচালকের ছবির মধ্যে থেকে আমরা এই ১২টি বেছে নিলাম আপাতত। পূর্ণাঙ্গ তালিকা বলাই বাহুল্য, অতি দীর্ঘ।
আমাদের বাছাইয়ে আমরা খুঁজে নিয়েছি তিরিশ থেকে আশির দশকের মধ্যে ১২ জন পরিচালকের ছবি। তিরিশের দশক থেকে রয়েছে দু’টি ছবি। ১৯৩২-এর ‘চণ্ডীদাস’ এবং ১৯৩৯-এর ‘জীবন-মরণ’। পরিচালক যথাক্রমে দেবকী বসু অবং নীতিন বসু। পরের ছবিটি পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিককার— ১৯৫১ সালের পুজোয় মুক্তি পাওয়া ‘বাবলা’। পরিচালক অগ্রদূত। এর পরেই থাকছে সত্যজিৎ রায়ের ‘অপরাজিত’। ১৯৫৬-র পুজোয় মুক্তি পেয়েছিল। উত্তম-সুচিত্রার উপস্থিতি কি বাদ থাকতে পারে? অবশ্যই না। পরের ছবি তাই, ‘ইন্দ্রাণী’। ১৯৫৮-র ছবি, পরিচালক নীরেন লাহিড়ী। শরৎচন্দ্রের দেড়শো বছরকে মনে রেখে আমরা বেছে নিয়েছি ‘ইন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত ও অন্নদাদি’ ছবিটিও। সন ১৯৫৯, পরিচালক হরিদাস ভট্টাচার্য। ১৯৬৫-র পুজোয় রিলিজ করেছিল ঋত্বিক ঘটকের ‘সুবর্ণ-রেখা’। আমাদের তালিকার সপ্তম ছবি সেটি। এর পরেই আসছে অবিস্মরণীয় সঙ্গীতে সমৃদ্ধ ‘এন্টনী ফিরিঙ্গী’। সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ১৯৬৭-র পুজোর ছবি। সত্তরের রাগী মেজাজ ধরা দিয়েছিল পুজোর ছবিতেও। মৃণাল সেনের ‘কলকাতা ৭১’ এবং ‘পদাতিক’ (১৯৭৩) দু’টিই পুজোর ছবি। আমরা বেছে নিয়েছি ১৯৭২-এ মুক্তি পাওয়া ‘কলকাতা ৭১’-কে। কারণ ১৯৭৩-এরই অন্য একটি ছবি থাকছে আমাদের তালিকায়— তরুণ মজুমদারের চিরসবুজ ছবি ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’। ১৯৭৫-এর পুজোয় এল উত্তমকুমারের ‘সন্ন্যাসী রাজা’। পরিচালনা পীযূষ বসু। আশির দশকের প্রতিনিধি হয়ে থাকছে তপন সিংহের ‘আতঙ্ক’ (১৯৮৬)।
আবারও বলি, এই তালিকা তো পূর্ণাঙ্গ নয়। একটা ধরনের বাছাই বড়জোর। ভবিষ্যতে আবারও ফিরতে পারি অন্য কোনও বাছাই নিয়ে। অন্য পুজোর অন্য ছবি নিয়ে।