
চলচ্চিত্র জগতে একজন ভাল গাইড পেলে অনেক বিষয়ে জানা যায়। গল্প আছে, ছবি বিশ্বাস সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে এতই ভালবাসতেন যে, প্রবীণ অভিনেতা তাঁর অনুজকে যেখানে সম্ভব সুযোগ দিয়ে তাঁর অভিনয় কুশলতা আরো যাতে বাড়তে পারে, তার জায়গা করে দিতেন। স্টার থিয়েটারের মালিক, সলিল মিত্র, একদিন সৌমিত্রকে নিয়ে গেলেন স্টেজের পিছনে সেই ঘরে যেখানে ছবি বিশ্বাস বসতেন। তারপর সৌমিত্র যাতে ওই থিয়েটারে যোগ দেন সে বিষয়ে ছবিবাবু কতটা চাপ দিয়েছেন, সে কথা ফাঁস করলেন। কারণ? খুবই সোজা। এতে স্টার থিয়েটারেরই শুধু উপকার হবে তাই নয়, সৌমিত্রও কিছু শিখতে পারবেন। অজয় করের 'অতল জলের আহ্বান' ছবির শুটিং চলার সময় সৌমিত্র তার আঁচ পেয়েছিলেন। বাবা-ছেলের অভিনয়ে একটা ৬ মিনিট লম্বা শট ছিল। কোন কারণে সৌমিত্র ঠিক পারছিলেন না। কয়েকবার চেষ্টার পর বিফল সৌমিত্র প্রবীণ অভিনেতার কাছে গিয়ে পেটে একটু হাত বুলিয়ে বললেন, "কেমন করে করব, একটু দেখিয়ে দেবেন?" ছবিবাবু তার দিকে তাকিয়ে সোজা বললেন,"তা হলে তুমি বুঝেছ, যে তুমি পারছ না?" সৌমিত্র তো স্বীকার করতেই রাজি। "সে তো বটেই, তাই তো আপনাকে দেখিয়ে দিতে বলছি"। তার পর এ রকম ব্যবস্থা হল যে, ছবিবাবু সৌমিত্রর কথাগুলো বলবেন। অভিনয়ের সময় যে জায়গাটায় সৌমিত্রর আটকে যাচ্ছিল, সেখানে ছবিবাবু একটু থামলেন। তার ভুল শুধরে দিয়ে বললেন, "বুঝতে পারছ?" সৌমিত্র মাথা নাড়ার পর তাকে ওই অংশটা করতে বলা হল। সৌমিত্র ভুলটা ঠিক করে নিয়েছেন দেখে ছবি বিশ্বাস বললেন,"শিখে নাও, শিখে নাও, আর কবে শিখবে?" শ্রী, লোটাস ও ইন্দিরা প্রেক্ষাগৃহে এই ছবি মুক্তি পায় ২৫ শে মে, ১৯৬২। ছবি দেখার সময় দর্শকরা জানতেও পারেননি বাবা-ছেলের অভিনয়ে কোথায় গোলমাল হয়েছিল।