সুরেলা তথ্যের ঝাঁপি টাইটল কার্ডে
সুরেলা তথ্যের ঝাঁপি টাইটল কার্ডে

সিনেমার টাইটল কার্ড থেকে চলচ্চিত্র সঙ্গীত সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য পাওয়া যায়? সকলেই বলবেন, এ আর বেশি কথা কী? গীতিকার-সুরকার-গায়কদের নাম থাকে! আমরা বলব, তার চেয়ে বেশি কিছুও থাকে। কত রকমের আর কত ধরনের তথ্য যে চাইলে খুঁজে নেওয়া যায়! যেমন ১৯৩৫ সালের ছবি ‘‘মুক্তি’’। রবীন্দ্রকাহিনির বাইরে সেই প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহার সিনেমার পর্দায়। বিশ্বভারতীর অনুমোদন সাপেক্ষে কোন গানগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, দেওয়া আছে তার তালিকা। এমন তালিকা এবং বিশ্বভারতীর অনুমোদনের কথা তার পর আরও বহু বছর ধরে বাংলা ছবির টাইটল কার্ডে দেখা যেত। ‘‘মুক্তি’’ দিয়েই তার সূচনা। গীতিকার এবং সুরকারের নাম লেখা অতিপরিচিত টাইটল কার্ডের নমুনা হিসেবে আমরা নিয়েছি "শহর থেকে দূরে’’ ছবিটি। সেখানে গীতিকার দু’জন— নজরুল ইসলাম এবং শৈলেন রায়, সুরকার সুবল দাশগুপ্ত। গায়কের পরিচিতি? আমাদের বাছাই "শাপমোচন"— যেখানে সর্বাগ্রে জ্বলজ্বল করছে ডিভি পালুসকরের নাম। তার পর ক্রমে চিন্ময় লাহিড়ী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র এবং প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাদ্যানুষঙ্গের জন্য এক সময় বাংলা ছবিতে নিয়মিত ডাক পড়ত বাজনদারদের নামী সব গোষ্ঠীর। যেমন বাংলা ছবির টাইটল কার্ডে অতি পরিচিত নাম, সুর ও শ্রী অর্কেস্ট্রা। আমরা ব্যবহার করেছি এখানে "রাজকন্যা" ছবির টাইটল কার্ড। সঙ্গীত নির্মাণের পরে আসে রেকর্ডিংয়ের পর্ব। বাংলার রেকর্ডিস্টরা কাজ করেছেন বম্বেতে আর বম্বে থেকেও রেকর্ডিস্টরা কাজ করেছেন বাংলা ছবির জন্য। “মণিহার”-এর টাইটল কার্ডে টালিগঞ্জ থেকে শ্যামসুন্দর ঘোষ তো আছেনই, সঙ্গে বম্বে থেকে তিন জন। তার মধ্যে আবার অন্যতম বাংলারই রবীন চট্টোপাধ্যায়। ঋত্বিক ঘটকের "তিতাস একটি নদীর নামে" লোকসঙ্গীতের বহুল ব্যবহার ছিল। সঙ্গীত সংগ্রাহক হরলাল রায়ের ঋণ আলাদা ভাবে স্বীকার করা হয়েছিল টাইটল কার্ডে। আশির দশকের হিট সঙ্গীতবহুল ছবি ‘‘সুরের আকাশে’’। ভিনাইল রেকর্ড পেরিয়ে ক্যাসেটের যুগে প্রবেশের সাক্ষ্য ধরা পড়ছে সেই সময়কার টাইটল কার্ডে। রেকর্ড এবং ক্যাসেট, দুয়েরই স্বত্বের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। আবহসঙ্গীতের জন্য আলাদা সঙ্গীত পরিচালক নেওয়াটা আজকের দিনে খুব প্রচলিত। আগে অতটা ছিল না। ‘‘শ্বেতপাথরের থালা’’ ছবিতে দেখা যাচ্ছে আবহসঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন সুখ্যাত অলোকনাথ দে। বাঙালির ব্যান্ডসঙ্গীত চর্চা নিয়ে অঞ্জন দত্তের ছবি ‘‘ম্যাডলি বাঙালি’’র শুরুতেই পাচ্ছি ‘‘মহীনের ঘোড়াগুলি’’র প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। ছবি মুক্তির আগেই অকালে প্রয়াত হয়েছিলেন সঙ্গীত পরিচালক কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। ‘‘বিসর্জন’’ ছবি শুরু হয় তাঁর স্মৃতিতর্পণে। টাইটল কার্ডকে সুরেলা তথ্যের ঝাঁপি বলা ভুল হল না তো?