বিএফএ-র শরৎ প্রণাম
বিএফএ-র শরৎ প্রণাম

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আজ ১৫০ বছরে পা দিচ্ছেন। বাংলা ছবি যে কত ভাবে তাঁর কাছে ঋণী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ হিসেবে বিএফএ-র পক্ষ থেকে মনে রাখবার মতো দশটি কথা আপনাদের জন্য সাজিয়ে দিলাম। শরৎচন্দ্রের উত্তরাধিকার এবং বাংলা ছবি আরও বহু দিন বাঁচুক, এই প্রার্থনা। 

নির্বাক যুগে শরৎকাহিনি থেকে ছবি হয়েছিল ৬টি। ১৯২২-এ "আঁধারে আলো"। তার পর একে একে "চন্দ্রনাথ" (১৯২৪), "দেবদাস" (১৯২৯), "শ্রীকান্ত" (১৯৩০), "চরিত্রহীন" (১৯৩১) এবং "স্বামী" (১৯৩১)। 

বাংলার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চিত্রটিও শরৎচন্দ্রের গল্প — "দেনাপাওনা"। নিউ থিয়েটার্সের ব্যানারে তার পরিচালক ছিলেন প্রেমাঙ্কুর আতর্থী। বস্তুত সবাক যুগ শুরু হওয়ার পরে একটা লম্বা সময় জুড়ে বাংলা ছবি বারবার শরৎচন্দ্রের কাছে ফিরে গিয়েছে। শুধু পঞ্চাশের দশকেই শরৎচন্দ্রের লেখা অবলম্বনে ছবি হয়েছে ২৩টি।  

লক্ষণীয় হল, নির্বাক যুগে তৈরি সব ক’টি ছবিই পরে সবাক আমলেও হয়েছে। শুধু বাদ, "চরিত্রহীন"। 

"দেনাপাওনা" এবং "দত্তা" শরৎচন্দ্র নিজে প্রথমে উপন্যাস আকারে লিখেছেন, পরে মঞ্চের জন্য নাট্যরূপ দিয়েছেন "ষোড়শী" এবং "বিজয়া" নামে। সিনেমায় এই দুই নামেই ছবি হয়েছে। "বিজয়া" হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। "দত্তা" হয়েছে যথাক্রমে ১৯৫১, ১৯৭৬ এবং ২০২৩ সালে। "দেনাপাওনা"র কথা বলেছি আগেই। "ষোড়শী" হয়েছিল ১৯৫৪ সালে।

নিউ থিয়েটার্সের "বিজয়া" ছবির বুকলেটে ছাপা হয়েছিল শরৎচন্দ্রের আশীর্বাণী— ‘‘তোমার আমার অনেক বই-ই চিত্রে রূপ দিয়েছ।...বিজয়াও ছবির দিক দিয়ে...সাহিত্যের দিক দিয়ে সকলের মনোরঞ্জন করুক, এ বারেও আমি এই আশীর্ব্বাদই কচ্ছি...।’’ 

শরৎচন্দ্রের গল্প অবলম্বনে ছবি করতে গিয়েই বাংলা ছবি পা বাড়িয়েছিল খোদ বর্মা মুলুকে। ১৯৫৭ সালে নির্মিত সে সিনেমার নাম "ছবি"। পরিচালনা নীরেন লাহিড়ী। 

শরৎ-চরিত্রে যে সব অভিনয়ের কথা দীর্ঘদিন লোকের মুখে মুখে ফিরেছে, তার মধ্যে আছে "দেবদাসে" প্রমথেশ বড়ুয়া, "পথের দাবী"তে দেবী মুখোপাধ্যায়, "কাশীনাথে" সুনন্দা দেবী, "মেজদিদি"তে কানন দেবী, "বিন্দুর ছেলে"তে সন্ধ্যারাণী ও মলিনা দেবী এবং "ইন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত ও অন্নদাদি" ছবিতে বিকাশ রায়। তালিকাটি বলাই বাহুল্য পূর্ণাঙ্গ নয়।  

শরৎকাহিনিতে উত্তমকুমারের অভিনয় ৯টি— "বড়দিদি", "চন্দ্রনাথ", "রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত", "গৃহদাহ", "কমললতা", "বিরাজ বৌ", "সব্যসাচী", "দেবদাস", "দর্পচূর্ণ"। 

কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে একটানা চলার হিসেব করলে সুচিত্রা সেনের সবচেয়ে বড় হিট "দত্তা"। পরিচালনা অজয় কর, নায়ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ২৬ সপ্তাহ চলেছিল ছবিটা।

কোনও সাহিত্যিকের বাল্যজীবনকে নিয়ে আলাদা করে ছবি হওয়ার নজির খুব বেশি নেই। সে দিক থেকে ১৯৭৮ সালে নির্মিত "বালক শরৎচন্দ্র" ছবিটি আলাদা করে উল্লেখ করা যায়। শরৎচন্দ্রের জীবনের প্রথম কুড়ি বছরের ঘটনাবলি নিয়ে ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন জয়ন্ত সাহা।  

আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের ভাল লাগলে এই জাতীয় তথ্যমালা ভবিষ্যতেও হাজির করার উৎসাহ পাব আমরা।